লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmi Bhandar) 1700 Per Month, কি ভাবে পাবেন?, সম্পূর্ণ গাইড, 2026 নতুন আপডেট

লক্ষ্মীর ভান্ডার ( Lakshmi Bhandar ) প্রকল্প হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি প্রধান কর্মসূচি যা ২০২১ সালে সমাজের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের আর্থিক সহায়তার জন্য চালু করা হয়। ২৫ থেকে ৬০ বয়সী মহিলাদের যাদের স্বাস্থ সাথী প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত আছে তাদেরকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়।

তপসিলি জাতি / উপজাতি পরিবারের মহিলাদের প্রতিমাসে ১২০০ টাকা  এবং অন্যান  সুবিধাভোগীদের অন্য প্রতিমাসে ১০০০ টাকা করে প্রদান করা হতো যা পরবর্তীকালে বাড়িয়ে যথাক্রমে  ১৭০০ ও ১৫০০ টাকা করা হয়। বর্তমানে এই Lakshmi Bhandar প্রকল্পে কিছু নতুন আপডেট করা হয়েছে, এই আর্টিকেল আমরা জেনে নেবো সম্পূর্ণ তথ্য।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প

Lakshmi Bhandar মূল উদ্দেশ্য:

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবা কেনার জন্য অনুদান প্রদান করা এবং মহিলাদের আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই হলো এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। 

Lakshmi Bhandar প্রকল্পের সুবিধা কী?

তপসিলি জাতি / উপজাতি পরিবারের মহিলাদের প্রতিমাসে ১৭০০ টাকা ও অন্যান পরিবারের মহিলাদের প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা করে মাসিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে কারা আবেদন করতে পারবেন?

আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে 

শুধুমাত্র মহিলারা আবেদন করতে পারবেন

আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ এর মধ্যে হতে হবে 

আবেদনকারীর নাম স্বাস্থ সাথী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে

কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মচারী, ও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী পেনশন ভোগীরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না। 

কারা আবেদন করতে পারবেন না?

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি কর্মচারী, সরকারি সংস্থার কর্মচারী, সরকারি পেনশন ভোগীরা এবং পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী বাসিন্দারা প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না।

আবেদন প্রক্রিয়া:

এই প্রকল্পের আবেদনপত্র দুয়ারে সরকার ক্যাম্পগুলোতে বিনামূল্যে পাওয়া যায়, পূরণকরা ফর্ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সেলফ এটাস্টেড জেরক্স কপি সহ দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে জমা করতে হয়।

লক্ষীর ভান্ডার অনলাইন আবেদন:

এই প্রকল্পের আবেদন অনলাইন এখন ও চালু করা হয়নি। এই প্রকল্পের আবেদন এখন শুধুমাত্র দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে অফলাইনে জমা নেওয়া হয়।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট কি কি লাগবে?

  1. স্বাস্থ সাথী কার্ড 
  2. আধার কার্ড 
  3. ভোটার কার্ড
  4. রেশন কার্ড
  5. ব্যাঙ্ক পাসবুক 
  6. এসটি ওবিসি সার্টিফিকেট (যদি থাকে)
  7. কালার পাসপোর্ট সাইজ ছবি 

আবেদনের সময় এই সমস্ত কাগজপত্রের জেরক্স কপি সহ অরিজিনাল নিয়ে যেতে হবে

আবেদনকারী দ্বারা স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র

যেখানে লেখা থাকবে:

যে তিনি পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা 

তিনি রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সংস্থা, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো নিয়মিত মাসিক পারিশ্রমিক অথবা পেনশন পান না 

এবং তার দেওয়া আবেদনপত্রে তথ্যগুলি সত্য ও সঠিক।

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে কোন ব্যাঙ্ক একাউন্ট জরুরী ?

  • এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য ব্যাঙ্ক একাউন্ট খুবই জরুরি, ব্যাঙ্ক একাউন্ট আবেদনকারীর নামে সিঙ্গেল একাউন্ট থাকতে হবে।
  • ব্যাঙ্ক একাউন্ট এর সাথে আধার এবং মোবাইল নম্বর লিংক থাকা জরুরি।
  • সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের একাউন্ট থাকতে হবে।
  • কোনো রকম পেমেন্ট ব্যাঙ্ক বা ওয়ালেট হলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

লক্ষ্মীর ভান্ডার স্ট্যাটাস চেক কী ভাবে করবেন?

লক্ষ্মীর ভান্ডার স্ট্যাটাস চেক করার জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে Track Lakshmi Bhandar Application Status এ ক্লিক করতে হবে সেখানে মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর, স্বাস্থ সাথী কার্ড নম্বর এবং অ্যাপ্লিকেশন আই ডি দিয়ে চেক করা যায়।

উপসংহার:

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প খুবই কম সময়ে অনেক জনপ্রিয় প্রকল্প হিসেবে পরিচিত হয়েগিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক ভাবে পিছিয়েপড়া মহিলারা অনেক উপকৃত হচ্ছেন, প্রতিমাসে তারা এক নির্ধিষ্ট পরিমানের অর্থ পেয়ে দৈননিন্দন খরচ সামলাতে পারছেন, এবং আগামী দিনে আরও বেশি মানুষ এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হবেন বলে আশা করা যাই।

পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় বসবাসকারীদের জন্য আরও কিছু বিশেষ এবং জনপ্রিয় প্রকল্পগুলি হলো:

কন্যাশ্রী
রূপশ্রী
কৃষক বন্ধু
স্বাস্থ সাথী
যুবশ্রী
সবুজ সাথী
জয় বাংলা পেনশন স্কিম
স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, প্রভৃতি

FAQ : লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :

লক্ষীর ভান্ডার স্ট্যাটাস চেক ফোন নম্বর থেকে করা যায়?

হ্যা , ফোন নম্বর থেকে করা যাবে।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে বয়স সীমা কত?

এই প্রকল্পের জন্য বয়স ২৫ থেকে ৬০ এর মধ্যে হতে হবে।

লক্ষ্মী ভান্ডার ফর্ম কোথায় পাওয়া যাচ্ছে?

এই প্রকল্পের ফর্ম বছরে কিছু নির্দিষ্ট সময়ে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে পাওয়া যাই।

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প কত সালে চালু করা হয়েছিল?

এই প্রকল্প ২০২১ সালে চালু করা হয়েছিল।

টাকা কবে পাওয়া যাই?

এই প্রকল্পের টাকা প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ট্রান্সফার করা আরম্ভ করে দেয়া হয়।

Disclaimer:

বর্তমানে Lakshmi Bhandar নাম পরিবর্তন করে Annapurna Yojana করা হয়েছে। সাথে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও পরিবর্তিত হয়েছে।সাথে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও পরিবর্তিত হয়েছে। এবং ও যোজনায় অনলাইন আবেদন করার জন্যে আবেদনকারীকে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লগইন করে আবেদন জমা করতে হবে।

আরো পড়ুন

Annapurna Yojana 2026: প্রতি মাসে 3000 টাকা সহায়তা, Online আবেদন পদ্ধতি ও সম্পূর্ণ তথ্য