PM Vishwakarma Yojana হলো কেন্দ্র সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে চালু করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও হস্তশিল্পীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কারিগরদের কম সুদে কোনো সিকিউরিটি ছাড়া ঋণ, বিনামূল্যে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম কেনার সহায়তা এবং ডিজিটাল লেনদেনের উৎসাহমূলক সুবিধা প্রদান করা হয়।
PM Vishwakarma Yojana কী ধরণের প্রকল্প?
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে সমাজে পিছিয়ে পড়া ও আর্থিকভাবে দুর্বল কারিগর ও হস্তশিল্পীদের স্বনির্ভর করে তোলার জন্যে আর্থিক ভাবে সহায়তা করা হয়। যার জন্যে জামানত ছাড়া কম সুদে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ, ও আধুনিক সরঞ্জাম কেনার জন্যে সহায়তা প্রদান করা হয়।
এই প্রকল্পটি ভারত সরকারের অর্থ মন্ত্ৰালয়ের Ministry of Finance (MOF) অন্তৰ্গত আর্থিক পরিষেবা বিভাগ Department of Financial Services (DFS), দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্ৰালয় Ministry of Skill Development (MSDE) এবং ক্ষুদ্র ছোট, ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রালয় (Ministry of Micro, Small, and Medium, Enterprises (MOMSME) এর যৌথ উদ্যোগে চালু করা হয়।
PM Vishwakarma Yojana-উদ্দেশ্য
এই যোজনার মূল লক্ষ হলো দেশের ঐতিহ্যবাহী কারিকর ও হস্তশিল্পীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো সুযোগ পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হলো:
- ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও হস্তশিল্পীদের ‘বিশ্বকর্মা’ হিসেবে সীকৃতি দিয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা।
- আধুনিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন (Skill Training) দিয়ে তাদের কাজের মান উন্নত করা।
- উন্নত ও আধুনিক সরঞ্জাম কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা, কাজের গতি বাড়িয়ে পণ্যের গুনগত মান বৃদ্ধি।
- কোনো জামানত ছাড়া সহজ শর্তে লোণের সুবিধা প্রদান করা এবং সুদের সাবসিডির মাধ্যমে লোনের খরচ কমানো।
- কারিগরদের তৈরী পণ্যের ব্র্যান্ডিং, ও মার্কেটিং বাড়িয়ে নতুন ব্যাবসায়িক সুযোগ তৈরী করা।
- ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও হস্তশিল্পকে আরও উন্নত, শক্তিশালী, করে কারিগরদের আয়বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদে জীবিকা নিশ্চিত করা।
- ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যাবহারে উৎসাহ প্রদান করা যাতে কারিগররা ডিজিটাল লেনদেনে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
PM Vishwakarma Yojana 2026 Update
২০২৬ সালে ও যোজনা চালু রয়েছে এবং এর সুবিধা ঋণের পরিমান, সুদের হার, ও যোগ্যতাই কোনো পরিবর্তন করা হয় নি। তবে এই স্কিমকে আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালে শুরু পর্যন্ত প্রায় ৩০ লক্ষ কারিগর এর প্রকল্পে নিবন্দিত্ব হয়েছেন।এছাড়া PM Vishwakarma Haat ২০২৬- কর্মসূচি যেটা জানুয়ারী ২০২৬ এ অনুষ্ঠিত করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে কারিগরদের তৈরী পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ ও বাড়ানো হয়েছিল।
যোজনার সুবিধাগুলি: Benefits
এটি একটি কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প।এর মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও হস্তশিল্পীদের কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহায়তা করা হয়। এই প্রকল্পে প্রধান সুবিধাগুলি হলো–
PM Vishwakarma সার্টিফিকেট ও পরিচয়পত্র
যোগ্য কারিগরদের PM Vishwakarma Certificate ও ID Card দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তারা সরকারি সীকৃতি পান।
দক্ষতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ
কারিকরদের কাজের মান বাড়ানোর জন্য এবং তাদের আয় বৃদ্ধির জন্যে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক কাজ শেখানোর জন্যে ট্রেনিং দেওয়া হয়।
যন্ত্রপাতি কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান
ট্রেনিং শেষ হওয়ার পরে কারিগরদের প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ₹১৫,০০০ করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
পণ্য বিক্রি ও প্রচারে সহায়তা
পণ্য বিক্রির সুযোগ এবং আয় বৃদ্ধির জন্যে কারিগরদের তৈরী পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছাতে পণ্যের প্রচার, প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সুযোগ, অনলাইনে বিক্রি, এবং নতুন ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়া হয়।
জামানত ছাড়া লোনের সুবিধা
এই প্রকল্পে জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ₹৩ লক্ষ পর্যন্ত লোন পাওয়া যায়। প্রথম ধাপে ₹১ লক্ষ এবং দ্বিতীয় ধাপে ₹২ লক্ষ দেওয়া হয়। এই লোনের সুদের হার ৫%
জিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা
কারিগরদের UPI এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা লেনদেনে উৎসাহ প্রদান করা হয়, যাতে তারা সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহার করতে পারেন।
এই যোজনার সুবিধা পাওয়ার ধাপগুলি:
১. যোগ্য কারিগরদের বাছাই
২. PM Vishwakarma Portal Registration
৩. অনুমোদন ও ID Card প্রদান
৪. ট্রেনিং প্রদান
৫. টুলকিট প্রদান ও ঋণ সহায়তা
৬. মার্কেটিং ও ডিজিটাল লেনদেন সহায়তা
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত পেশাসমূহ:
| কাঠমিস্ত্রি | মুচি |
| কামার | রাজমিস্ত্রি |
| নৌকা নির্মাতা | ঝুড়ি, মাদুর, ঝাঁটা প্রস্তুতকারক |
| অস্ত্র নির্মাতা | পুতুল ও খেলনা নির্মাতা |
| হাতুড়ি প্রস্তুতকারক | নাপিত |
| তালা প্রস্তুতকারক | ধোপা |
| স্বর্ণকার | দর্জি |
| কুমোর | মালা প্রস্তুতকারক |
| ভাস্কর | মাছ ধরার জাল প্রস্তুতকারক |
বর্তমানে বিশ্বকর্মা যোজনার আওতায় এই ১৮টি ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলি অন্তর্ভক্ত রয়েছে। ভবিষতে সরকার দ্বারা প্রয়োজন অনুযারী আরও পেশা অন্তর্ভক্ত করা যেতে পারে।
এই যোজনায় কারা আবেদন করতে পারেন?
যোজনায় আবেদন করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয় যেমন–
১. আবেদনকারীকে ঐতিজ্যবাহী কারিগর হতে হবে
আবেদনকারীকে নিজের হাতে বা সাধারণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সরকার নির্ধারিত ঐতিজ্যবাহী কোনো পেশায় কাজ করতে হবে, এবং স্বনিযুক্ত (Self Employed), অসংগঠিত খাত (Unorganized), অনানুষ্ঠানিক (Informal) কারিগর বা হস্তশিল্পী হতে হবে ।
২. আবেদনকারীর নূন্যতম বয়স
আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
৩. বর্তমানে এই পেশায় যুক্ত থাকতে হবে
আবেদনকারীকে ঐতিজ্যবাহী পেশায় সক্রিয় ভাবে কাজে যুক্ত থাকতে হবে।
৪. গত ৫ বছরে একই ধরণের যোজনার সুবিধা নিয়ে থাকলে
যদি আবেদনকারী গত ৫ বছরে PMEGP, PM SVANidhi বা Mudra-এর মতো কোনো সরকারি যোজনার সুবিধা নিয়ে থাকেন তাহলে এই যোজনা সুবিধা পাবেন না।
তবে যদি PM SVANidhi বা Mudra লোন সম্পূর্ণ পরিশোধ করে থাকলে তিনি এই যোজনায় আবেদন করতে পারেন।
৫. একটি পরিবার থেকে একজনই এই যোজনায় আবেদন করতে পারবেন
এই যোজনার সুবিধা একটি পরিবারের একজন সদস্য নিতে পারবেন।(একটি পরিবার বলতে স্বামী, স্ত্রী, এবং অবিবাহিত সন্তানদের বোঝানো হয়েছে)
৬. সরকারি কর্মচারীরা আবেদন করতে পারবেন না
কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কর্মচারী এবং তার পরিবারের সদ্যসরা এই যোজনায় আবেদন করতে পারবেন না।
আবেদন করার প্রদ্ধতি
এই যোজনায় আবেদন Common Service Centre (CSC) করা যায়।
আবেদনের সময় নির্ধারিত ডকুমেন্ট নিয়ে যেতে হবে।
CSC Centre-এ আধার ভিত্তিক এ-e-kyc ও বায়োমেট্রিক যাচাই করা হয়।
আবেদন সফল হলে রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হয় যেটার দ্বারা PM Vishwakarma Yojana Application Status Check করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনায় কী কী ডকুমেন্টস প্রয়োজন
- আধার কার্ড
- রেশন কার্ড
- মোবাইল নম্বর
- ব্যাংক ডিটেলস
- যদি আবেদনকারীর রেশন কার্ড না থাকে তাহলে পরিবারের সদস্যের আধার নম্বর দিতে হবে।
Source: Official Government Website of Ministry of Micro, Small, and Medium, Enterprises (MOMSME).
FAQ:
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা কী?
এই যোজনা হলো দেশের ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও হস্তশিল্পীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার জন্যে আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনায় কত টাকা ঋণ পাওয়া যায়?
যোগ্য আবেদনকারীদের ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ₹৩ লক্ষ পর্যন্ত ঋণের সুবিধা প্রদান করা হয়।
এই যোজনার ঋণের সুদের হার কত?
এই প্রকল্পে ঋণের সুদের হার 5%।
PM Vishwakarma Yojana ডকুমেন্ট কী কী লাগবে?
আধার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড, মোবাইল নম্বর, ব্যাংক ডিটেলস।
Related Articles:
Kisan Credit Card (KCC) 2026 Latest Update